logoLeft Dulal Alom Mobile No: 01309 126640

কবিতা

আধুনিক গান
রুপের ছটা মধুবালা
> পরশ হতে ঝরে
আকাশ বাতাস মাতাল করে
ফুলেল  প্রেমের তরে ।।
  আনন্দে সব ঝরনা ঝরে
বেয়ে নেয়ে চলে  
নৃত্যকলার তরঙ্গ মালার
কথা যেন বলে
“সাগর জলে না পৌঁছালে
ব্যর্থ যৌবন ঘরে “   ।।
  চারিদিকে স্বর্গপুরী
সদা হেসে ওঠে
লাস্যগীতির হাস্যস্ফিতির
আশা ফুটে লুটে -
ভালবাসার মালা গাঁথার
সময় হলো পরে  ।।

এফ সেভেন ফাইটার বিমান ও ফিউনারেল প্যারেড

দুলাল আলম
দুলাল আলম   ,প্রাণ আছে যার মৃত্যু অবধারিত তার ।  স্বাভাবিক জীবনে  চিরায়ত অস্বাভাবিক অকল্পনীয় মৃত্যু ভাবা বা  জানা সহজ নয় ।  যাদের স্বজন হারায় রক্তে তাদের দহন প্রতিনিয়ত দগ্ধ করে৷,  জাতির কালো ব্যাজ ধারন,  পতাকা  অর্ধনমিত করা সার্জিক্যাল উপশমে সুখ পেতে চায় নিয়ত  সবায় কিন্তু যাদের হারায় তাদের রক্তে চিরদিন মিশে যায় এক ধরনের অচিন্তনীয় দুঃখবোধ ! বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ সেভেন ২১/০৭/২৫ ইং দুপুর একটা ছয় মিনিটে উড্ডয়ন করে ১ টা ১৩  মিনিটে রাজধানী ঢাকার উত্তরায়  অবস্থিত  মাইলস্টোন  স্কুল  ও কলেজে পাঠদান  চলাকালীন সময়ে  স্বল্প পাল্লার  প্রশিক্ষণ বিমানটি আসড়ে পড়ে।   পাইলট প্যারাসুট যোগে লাফিয়ে পড়ার  চেষ্টারত অবস্থায়  বিমানটি পাঠদানরত শ্রেণী কক্ষের ভেতরে ঢুকে পড়লে শত শত শিক্ষার্থী অগ্নিদগ্ধ হয় !  বিমানটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার ব্রিগেড, আর্মি, পুলিশ,  সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীগন সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন ।  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।  এতে  ৩২ জন শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করে এবং ৮৮ জন বা ততধিক আহত হয়ে বার্ন ইনস্টিটিউট, সিএমএইস, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পাঠানো হয় ।  হাসপাতালে ডাক্তার নার্সরা তাদের চিকিৎসা দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন এবং হিমশিম খান। সব মিলিয়ে একটি  প্রশিক্ষণ  বোমারু  বিমান দুর্ঘটনা জনিত মানবিক দুর্যোগ পরিলক্ষিত হয়। মাহরিন চৌধুরী যিনি জিয়াউর রহমানের ভাতিজি মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা ছিলেন৷।  তিনি দুর্ঘটনার সময় নিজের জীবন বিপন্ন করে ২০ জন শিক্ষার্থীকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে নিজেকে আত্মাহুতি দেন। শুভকামনা তার জন্যে। একজন মা রজনী তার সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আত্মা হুতি দেন কিন্তু ভাগ্যক্রমে তার মেয়ে ঝুমঝুম বেঁচে আছে। পাইলট তৈকির ককপিটে আর  তিন সেকেন্ড  সময় দিলে  হয়ত অন্য  রকম ইতিহাস লেখা যেত  । এফ সেভেন  বিজিআই বিমানটি চীনের   চেঙ্গু  এয়ারক্রাফট কর্পোরেশনের তৈরি এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট একটি স্বল্প পাল্লার বোমারু  বিমান ।  ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৬ টি   এফ সেভেন বোমারু বিমান ক্রয় করা হয় এবং বাংলাদেশে সর্বমোট ৩৬ টি এ জাতীয় যুদ্ধবিমান ক্রয় করে। বাংলাদেশের নিকট প্রায় ৫০ টির মত স্বল্প পাল্লার বোমার বিমান রয়েছে ।  পুরনো বেশিরভাগ এ সমস্ত যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানেই সংগঠিত হয়ে থাকে এবং ওই সমস্ত বিমান দিয়েই তারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন ।   ২০০৮ সালের ৮ এপ্রিল টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এফ সেভেন এর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে  একজন নিহত  হন ।  ২০০৮ সালের  ২৩ নভেম্বর এফ সেভেন প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ চলাকালে   একজন নিহত হন  । এফ সেভেন প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানে মিসাইল ,  কামান,  গোলাবারুদ বহন করতে পারে। এই বিমানটি ত্রিশ হাজার  পাউন্ড পরিমাণ বিস্ফোরক বহণ করতে পারে । একই সঙ্গে এই বিমানের রেঞ্জ ৮০ কিলোমিটার পার আওয়ার   । সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪৭০ কিলোমিটার পার  আওয়ার । জে সেভেন বোমারু বিমান  ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে,  এর সাতটি হার্ড পয়েন্ট আছে, পিএল ৫,পিএল৯, পি এল ১২ এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র  বহন করতে পারে। দৃষ্টিসীমার বাইরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে না, সর্বোচ্চ গতি টু পয়েন্ট টু মাক  । আউটার বার্নিং ইঞ্জিন ৮২ কিলোনিউটন শক্তি উৎপন্ন  করতে পারে, । মাল্টি ফাংশান এইচইউডি ডিসপ্লে ও এইচওটিএস  নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে   । কেএলজে ৬ এফ ফায়ার কন্ট্রোল ব্যবস্থা আছে, ৮৬ কিলোমিটারের অধিক দুরের লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করতে পারে । একযোগে দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করতে পারে । জে সেভেন জি ২  এয়ার ফ্রেম ও ডাবল জে এল উইং ডিজাইনের জন্য অনেক উঁচুতে উঠে আক্রমণ করতে পারে। রাশিয়ার তৈরী মিগ একুশ এর অনুসরণে জে সেভেন চীনে প্রস্তুত করা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে।    বিমানবাহিনীর জে ৭ এর পাইলট তৌকির  মৃত্যুবরণ করলে তার ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়,  এমন ধরনের প্যারেড নিহত ৩২ জন শিশুর প্রতিকী ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হলে আত্মীয়-স্বজনরা একটু সান্তনার পরশ পেতে পারত।  #####

    • সামাজিক যোগাযোগ
    •  
    •  
    •  
  • ওমর ফারুক, সুখানদিঘী দাখিল মাদরাসা, দুর্গাপুর, রাজশাহী। মোবাইল নং- ০১৭১২ ৩৩৭৩৭২